June 5, 2026, 2:18 am
বিশ্বে ব্যাংকিং কেলেঙ্কারিতে এবার বাংলাদেশি তিনটি ব্যাংকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি সরকারি এবং দুইটি বেসরকারি ব্যাংক।
২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কেলেঙ্কারির মাধ্যমে তিন ব্যাংকের মোট লেনদেনের পরিমাণ ৮ লাখ ৩৩ হাজার ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের গোয়েন্দা সংস্থা ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এই রিপোর্টে সারা বিশ্বে ২ ট্রিলিয়ন ডলার লেনদেনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে জার্মানির ডয়চে ব্যাংক।
গত ১৮ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে রিপোর্টে। রিপোর্টটি সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)।
রিপোর্টের নাম দেয়া হয়েছে ফিনসেন ফাইল। এর আগে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্স নামে দুটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল সংস্থাটি। সেখানে অর্থ পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের ৮৪ ব্যক্তির নাম উঠে এসেছিল।
বাংলাদেশ থেকে এই সময়ে সন্দেহজনক ৮টি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মোট অর্থের পরিমাণ ৮ লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা।
এর মধ্যে দুটি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ লেনদেনে বাংলাদেশে এসেছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৩ ডলার। আর একটি সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ৫টি লেনদেনে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ২০৪ ডলার।
এই লেনদেনগুলো ফিনসেনের সন্দেহজনক লেনদেনের তালিকাভুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক মেলকন কর্পোরেশন ও স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড পিএলসির মাধ্যমে হয়েছে।
এই অর্থ বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং আরও তিনটি দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। অর্থের উৎস জালিয়াতিপূর্ণ জেনেও লেনদেনে অনুমতি দিয়েছে ব্যাংকগুলো।
অসাধু ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা কীভাবে অবৈধ অর্থ পাচার করে, তা এই ফাইলে উঠে এসেছে।
তবে সন্দেহজনক লেনদেনের নথিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে বেআইনি আখ্যা না দিয়ে সাসপিসিয়াস অ্যাকটিভিটি রিপোর্টস বা এসএআর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিনসেন ফাইলসে ১৯৯৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকের সন্দেহজনক লেনদেনের ১৮ হাজার ১৫৩টি নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এতে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোয় সন্দেহজনক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কীভাবে অর্থ লেনদেন করে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, আলোচ্য সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন করেছে।
আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক লেনদেন করেছে জার্মানির ডয়চে ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটি ৯৮২টি লেনদেনে মোট ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জিপি মর্গানের ৫১৪ বিলিয়ন ডলার, তৃতীয় অবস্থানে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ১৬৬ বিলিয়ন, ব্যাংক অব নিউইয়র্কের লেনদেন ৬৪ বিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বারক্লেইস ২১ বিলিয়ন, এইচএসবিসি ৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন, ব্যাংক অব চায়না ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন, ব্যাংক অব আমেরিকা ৩৮৪ মিলিয়ন, সিটি ব্যাংক ২৫১ মিলিয়ন এবং ওয়েলস ফারগোর মাধ্যমে ৫৭ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
৮৮টি দেশের ১০৮টি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বাজফিড নিউজ এই ফিনসেন ফাইলটি শেয়ার করে আইসিআইজে।